আস্সালামুআলাইকুম,

আমরা জানি যে বিয়ে একজন মানুষের জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যা মহান আল্লাহর বিশেষ এক নেয়ামত। রাসুল (সঃ)-এর সুন্নত। ঈমানের পূর্ণতার সহায়ক। চারিত্র রক্ষার অনন্য হাতিয়ার। আদর্শ পরিবার গঠন, জৈবিক চাহিদা পূরণ এবং মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রধান উপকরণ। প্রাপ্ত বয়স্ক ও সামর্থ্যবান হলে কালবিলম্ব না করে বিয়ে করা প্রত্যেকের ঈমানি দায়িত্ব। বিয়ে শুধু জৈবিক চাহিদাই নয়, বরং একটি মহান ইবাদতও বটে। প্রিয় নবী (সাঃ) সর্বদা বিবাহিত জীবনের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন, কারণ  বিয়ের মাধ্যমে ইহ ও পরকালীন কল্যাণ সাধিত হয়। বিয়ে মানুষের জীবনকে পরিশীলিত, মার্জিত ও পবিত্র করে তোলে।

তিনি বলেন- 

“বিবাহ আমার সুন্নাত যে আমার সুন্নাতের ওপর আমল করবে না সে আমার দলভুক্ত নয়। সুতরাং তোমরা বিবাহ করো।”

“বান্দা যখন বিবাহ করে, তখন সে তার অর্ধেক ঈমান (দ্বীন) পূর্ণ করে। অতএব বাকী অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’’

মহান আল্লাহতায়ালা বলেন-

“তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রেম ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ - (সূরা রুম : আয়াত ২১)। 

“তারা তোমাদের পোশাকস্বরূপ তোমারাও তাদের পোশাকস্বরূপ। যার পোশাক যে যেভাবে ইচ্ছে ব্যবহার করতে পারো।”- (সূরা বাকারাহ : আয়াত নম্বর ১৮৭)”

আর এই পোশাক বা সঙ্গিনীর শরণাপন্ন হওয়া বৈধ উপায় হলো বিয়ে।

আমরা লক্ষ্য করছি যে, বর্তমান সমাজ বিয়ে থেকে দূরে সরে, অশ্লিল পাপাচারে লিপ্ত। শিক্ষা, ক্যারিয়ার, উন্নত জীবনের মোহে আমাদের পিতামাতা অভিভাবেকরা যেন অন্ধ প্রায়। বিয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে বিয়েকে জীবনের উন্নতির প্রতিবন্ধক মনে করে ক্রমাগত পিছনে ঠেলে দিচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে ছেলে মেয়েদের যৌবনকাল অতিবাহিত হচ্ছে চরম অবক্ষয়ের মাধ্যমে। বিয়ের বয়স পেড়িয়ে গেলেও ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেয়া হচ্ছে না। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যানে যেনা পাপ এখন হাতের মুঠোয়, পর্নোগ্রাফি, অশ্লীল সিনেমা-নাটক, শর্টফিল্ম আমাদের তরুণ-তরুণীদের করছে উন্মাতাল। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে সংযতো রাখা হলো,আগুনের মধ্যে দাড়িয়ে থাকার মতো ধৈর্য ধারন করার মানসিকতা বহন করা। সুতরাং অবৈধ যৌনতা, ধর্ষণ, ব্যভিচার বাড়াটাই স্বাভাবিক। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো বিয়েকে সহজ করে ছেলেমেয়েদের উপযুক্ত বয়সে বিয়ে দেয়া আর এর দায়িত্ব নিতে হবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের।

সমাজ এক্ষেত্রে বেশ কিছু অজুহাত দাঁড় করিয়েছে। ‘বিয়ে করে বউকে খাওয়াবে কী?’ ‘নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আগে বিয়ে নয়’ ইত্যাদি। বর্তমানে আমাদের সমাজ বিয়েকে করেছে কঠিন থেকেও কঠিনতর, বিয়েতে পাত্রের সামর্থ্যের বাইরে মোহরানা নির্ধারণ, বিপুল আয়োজন, বিয়ে যেন এক বিলাসিতার নাম। আজকের বিয়ের বাজারে সরকারি চাকরি, বা বেসরকারি হাই-সেলারি যেন পূর্বশর্ত। অথচ, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিবাহ সম্পাদন করো এবং তোমাদের অধীনস্থদের মধ্যে যারা বিবাহের উপযুক্ত, তাদেরও’ তারা অভাবগ্রস্থ হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন’ নিশ্চয় আল্লাহ প্রাচুর্যময় জ্ঞানী। (সূরা নুর, আয়াত নম্বর- ৩২)। 

বিয়ে কখনো পড়াশুনা ও ক্যারিয়ার গড়ায় প্রতিবন্ধক নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হিসাবে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনে। সুতরাং, আপনার ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তাদের চারিত্রিক শুদ্ধতা নিয়ে বেড়ে উঠতে সহযোগিতা করুন।  প্রত্যেক অভিভাবকেরই উচিত দায়িত্ববান হওয়া। সন্তানকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলার পাশাপাশি সন্তানের প্রতিটি হক যথার্থভাবে আদায় করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,-‘কারও সন্তান জন্ম লাভ করলে সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে, তাকে উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়। যখন সে উপযুক্ত (দৈহিক ও মানসিক) হয় তখন যেন তার বিবাহ দেয়। যদি সে উপযুক্ত হওয়ার পরও তার বিবাহ না দেয় তাহলে সে কোনো পাপ করলে, সে পাপ তার পিতার উপর বর্তাবে।’ [মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৩১৩৮]

 

জীবনসঙ্গী.কম-এর মাধ্যমে সহজে, কম খরচে ও সন্মানজনক উপায়ে পাত্র-পাত্রীগন যেন তাদের পছন্দের জীবনসঙ্গী নির্বাচন করে দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনকে সহজ ও কল্যাণময় করতে পারে এটাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।